ইউনুসের বাংলাদেশ ২.০ -এ কবরেও শান্তি নেই মুক্তিযোদ্ধাদের!

Share

রাজবাড়ীর পাংশায় বীর মুক্তিযোদ্ধাদের কবরস্থানে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়েছে। ফজরের আজানের সময় যখন মানুষ নামাজে যাচ্ছিল, তখন তারা দেখল পুরো সীমানা বেড়ায় আগুন জ্বলছে। ঘটনাস্থলে পাওয়া গেছে তীব্র পেট্রলের গন্ধ। কবরস্থানের কোথাও বিদ্যুতের লাইন নেই। পরিষ্কার যে এটা পরিকল্পিত হামলা।

যে দেশের জন্য লাখো মানুষ প্রাণ দিয়েছিল, সেই দেশে আজ তাদের সমাধিতেও আগুন লাগানো হচ্ছে। একাত্তরে যাদের হাত রক্তে রাঙা ছিল, যারা পাকিস্তানি বাহিনীর দোসর ছিল, যারা এদেশের মা-বোনদের সম্ভ্রম লুটেছিল, তাদের উত্তরসূরিরাই আজ আবার মাথা তুলে দাঁড়িয়েছে। মুহাম্মদ ইউনুসের তথাকথিত অন্তর্বর্তী সরকার এবং সেনাপ্রধান ওয়াকার-উজ-জামানের নেতৃত্বে দেশে যে পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে, তাতে রাজাকার-আলবদরদের মানসিকতা আবার জেগে উঠেছে।

জুলাইয়ের সেই রক্তাক্ত অভ্যুত্থান ছিল সুপরিকল্পিত। বিদেশি টাকা, জঙ্গি গোষ্ঠীর সহায়তা আর একাংশের সামরিক মদদে নির্বাচিত সরকারকে উৎখাত করা হলো। ক্ষমতায় বসল এমন একজন, যার কোনো গণতান্ত্রিক বৈধতা নেই। মাইক্রোক্রেডিটের নামে দশকের পর দশক গরিব মানুষের রক্ত চুষে যিনি নোবেল পুরস্কার কিনেছেন, সেই সুদী মহাজন ইউনুস আজ দেশ চালাচ্ছেন। আর পাশে আছেন সেনাপ্রধান, যার নীরবতায় দেশজুড়ে সংখ্যালঘু নির্যাতন, আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ওপর হামলা, আর এখন মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে অগ্নিসংযোগ চলছে।

এই ঘটনা বিচ্ছিন্ন কিছু নয়। গত কয়েক মাসে সারাদেশে মুক্তিযুদ্ধের স্মৃতিচিহ্ন ভাঙচুর করা হয়েছে। শহীদ মিনারে হামলা হয়েছে। বঙ্গবন্ধুর ভাস্কর্য গুঁড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। ইতিহাস থেকে মুছে ফেলার চেষ্টা চলছে একাত্তরের সেই গৌরবোজ্জ্বল অধ্যায়। যে ইতিহাস ভুলে যাওয়ার জন্য পাকিস্তান পঞ্চাশ বছর চেষ্টা করেও পারেনি, সেই ইতিহাস মুছে দিতে চাইছে এদেশেরই কিছু মানুষ।

ইউনুসের সরকার এবং তার সামরিক পৃষ্ঠপোষকরা জানেন যে তাদের বৈধতা নেই। তাই তারা ভয় পান মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে। তাই তারা ভয় পান সেই বীরদের স্মৃতিকে, যারা প্রমাণ করে দিয়েছিল যে গণতন্ত্র আর স্বাধীনতার জন্য প্রাণ দেওয়া যায়। তারা জানেন যে মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস টিকে থাকলে তাদের অবৈধ শাসন টিকবে না।

পুলিশ বলছে এটা পরিকল্পিত অগ্নিকাণ্ড। কিন্তু কোনো গ্রেপ্তার হয়নি। কোনো তদন্ত এগোচ্ছে না। কারণ যারা এটা করেছে, তাদের পিঠে হাত আছে ক্ষমতাসীনদের। যে সরকার নিজেই অবৈধ পথে ক্ষমতায় এসেছে, তারা কীভাবে বিচার করবে স্বাধীনতাবিরোধীদের?

রাজবাড়ীর সেই কবরস্থানে যারা শায়িত আছেন, তারা স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা মুক্ত স্বাধীন দেশের। যে দেশে ন্যায়বিচার থাকবে, গণতন্ত্র থাকবে, মানুষের কথা বলার অধিকার থাকবে। আজ সেই স্বপ্নের দেশে অবৈধ সরকার চলছে। সামরিক বুটের তলায় পিষ্ট হচ্ছে গণতন্ত্র। আর মুক্তিযোদ্ধাদের সমাধিতে আগুন জ্বালিয়ে উল্লাস করছে স্বাধীনতার শত্রুরা।

ইউনুস আর ওয়াকারের এই জোট যতদিন ক্ষমতায় থাকবে, ততদিন এরকম ঘটনা ঘটতেই থাকবে। কারণ তাদের রাজনৈতিক প্রয়োজন হলো মুক্তিযুদ্ধের চেতনাকে মুছে ফেলা। তাদের দরকার এমন একটা বাংলাদেশ, যেখানে মানুষ ভুলে যাবে কীভাবে একটা জাতি রক্ত দিয়ে স্বাধীনতা কিনেছিল। তারা চান পাকিস্তানি ভাবধারার সেই বাংলাদেশ, যেখানে রাজাকাররা হবে বীর আর মুক্তিযোদ্ধারা হবে খলনায়ক।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত