Share
বাংলাদেশে কি পরিকল্পিতভাবে জঙ্গিবাদের পুনরুত্থান ঘটানো হচ্ছে? আর সেই ভয়ানক তৎপরতা থেকে দেশি-বিদেশি মহলের দৃষ্টি সরিয়ে নিতেই কি বলির পাঁঠা বানানো হলো ইনকিলাব মঞ্চের মুখপাত্র শরীফ ওসমান হাদিকে? সাম্প্রতিক একাধিক ঘটনাপ্রবাহ বিশ্লেষণ করে এমন চাঞ্চল্যকর প্রশ্নই এখন জনমনে ঘুরপাক খাচ্ছে।
গোয়েন্দা সূত্র ও রাজনৈতিক বিশ্লেষকদের মতে, একদিকে আফগান তালেবান নেতার রহস্যজনক ঢাকা সফর এবং অন্যদিকে কেরানীগঞ্জে মাদ্রাসা থেকে বিপুল পরিমাণ শক্তিশালী বোমা উদ্ধার—এই দুটি ঘটনা প্রমাণ করে যে, পর্দার আড়ালে বড় কোনো জঙ্গি নেটওয়ার্ক সক্রিয় হয়ে উঠেছে। ঠিক এই সময়েই রাজধানী ঢাকায় মাথায় গুলিবিদ্ধ হয়ে শরীফ ওসমান হাদির মৃত্যু এবং পরবর্তীতে তার লাশ নিয়ে সৃষ্ট উন্মাদনা পুরো দেশের মনোযোগকে ভিন্নখাতে প্রবাহিত করেছে।
সূত্র বলছে, আফগান তালেবান নীতিনির্ধারক মোল্লা জাওয়ান্দির এক সপ্তাহের গোপন ঢাকা সফর এবং নিষিদ্ধ সংগঠন হুজির নেতাদের সাথে তার বৈঠক দেশের নিরাপত্তার জন্য চরম অশনিসংকেত। অথচ সরকারের পক্ষ থেকে এই সফর নিয়ে এক রহস্যময় নীরবতা পালন করা হচ্ছে। ঠিক যখন এই জঙ্গি সংশ্লিষ্টতা নিয়ে প্রশ্ন ওঠার কথা, তখনই দৃশ্যপটে আসে ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড।
অভিযোগ উঠেছে, জনদৃষ্টিকে অন্য দিকে ঘুরিয়ে দিতেই জামায়াত ও নির্দিষ্ট কিছু বিদেশি শক্তি তাদেরই এক সময়ের বিশ্বস্ত ‘এজেন্ট’ ওসমানকে হত্যার ছক সাজায়। ওসমানের ভাই শরীফ ওমর হাদি সরাসরি ড. ইউনূসের দিকে আঙুল তুলে বলেছেন, এটি নির্বাচন ভণ্ডুল ও অস্থিতিশীলতা তৈরির এক সুপরিকল্পিত মিশন।
বিশ্লেষকদের মতে, উগ্রবাদী নেতাদের প্রকাশ্য তৎপরতা আড়াল করতে একটি ‘বড় ইস্যু’র প্রয়োজন ছিল। ওসমান হাদির মৃত্যুকে কেন্দ্র করে সংবাদমাধ্যমে অগ্নিসংযোগ ও মব ভায়োলেন্স সেই লক্ষ্যই পূরণ করেছে। অভিযোগ উঠেছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এই অরাজক পরিস্থিতিকে ব্যবহার করে তাদের দীর্ঘমেয়াদী ভূ-রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিল করতে চায়। মিয়ানমার সীমান্তে অস্থিরতা তৈরি এবং বাংলাদেশে একটি বিশেষ ‘খ্রিস্টান রাজ্য’ গঠনের যে ষড়যন্ত্রের কথা আগে থেকেই আলোচিত, বর্তমান পরিস্থিতি সেই নীলনকশারই প্রতিফলন বলে মনে করা হচ্ছে।
একাধিক সূত্রের দাবি, ড. ইউনূসকে বৈশ্বিক বড় কোনো পদের প্রলোভন দিয়ে এই অঞ্চলে পশ্চিমা এজেন্ডা বাস্তবায়ন করা হচ্ছে। আর এই এজেন্ডার অন্যতম অংশ হলো বাংলাদেশকে একটি অস্থিতিশীল রাষ্ট্রে পরিণত করা, যাতে চীনের প্রভাব কমিয়ে মার্কিন এয়ার বেজ স্থাপনের পথ প্রশস্ত হয়।
সব মিলিয়ে, ওসমান হাদি হত্যাকাণ্ড কি কেবলই একটি রাজনৈতিক সংঘাত, নাকি এটি বাংলাদেশে নব্য-জঙ্গিবাদের উত্থানকে নির্বিঘ্ন করার একটি ‘সেফ প্যাসেজ’? কেরানীগঞ্জের বোমা উদ্ধার আর তালেবান নেতার গোপন বৈঠক সেই শঙ্কাকেই চরম সত্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করছে। সচেতন মহল মনে করছেন, ওসমানের লাশের আড়ালে আসলে দেশের সার্বভৌমত্ব ও নিরাপত্তাকেই দাফন করার এক গভীর খেলা চলছে।
আরো পড়ুন

