Tuesday, April 21, 2026

আসামির তালিকায় খেলাফত মজলিস ও শিবির, অভিযান থমকে যাওয়ায় কেন বাড়ছে দৌলতপুরের আতঙ্ক?

Share

কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে পীর আবদুর রহমান ওরফে শামীম হত্যাকাণ্ডের চার দিন পার হয়ে গেছে। থমথমে এলাকায় এখনো গ্রেপ্তার হয়নি কেউ। নিহতের পরিবারের করা মামলায় প্রধান আসামি কুষ্টিয়া জেলা ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও দৌলতপুর উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য মুহাম্মদ খাজা আহমেদ। মামলার বয়ান বলছে, তার হুকুমেই লোহার রড আর ধারালো অস্ত্র নিয়ে দরবার শরিফে হামলা চালায় দেড় থেকে দুই শতাধিক সন্ত্রাসী। ভাঙচুর, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগ শেষে কুপিয়ে হত্যা করা হয় পীরকে।

ঘটনার পর দৌলতপুর উপজেলা জামায়াত বিবৃতি দিয়ে জানিয়েছে এটি রাজনৈতিক ঘটনা নয়, আকস্মিক ঘটনা। দলীয় সম্পৃক্ততা অস্বীকার করার এই চেষ্টা এক ধরনের পুরনো কৌশল। যখনই জামায়াত ও তাদের অঙ্গ সংগঠনের কেউ রক্তাক্ত কোনো ঘটনায় জড়ায়, তখনই তারা বলে এটি ব্যক্তিগত বা স্থানীয় ব্যাপার। অথচ তদন্ত বলছে, হামলাটি সংঘটিত হয়েছে একটি সাংগঠনিক কাঠামোর অধীনে, একটি সাংগঠনিক নেতৃত্বের নির্দেশে এবং একটি রাজনৈতিক পরিচয় বহনকারী জনতার অংশগ্রহণে।

এই ঘটনা মোটেও বিচ্ছিন্ন নয়। কুষ্টিয়ার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড আমাদের চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেয় যে দেশের একটি বিশেষ রাজনৈতিক গোষ্ঠী ও তাদের সাথে জড়িত উগ্রবাদী বলয় কতটা বিপজ্জনক হয়ে উঠছে। বিএনপির রাজনৈতিক দর্শন আর জামায়াতের ইসলামী উগ্রবাদ একই মুদ্রার এপিঠ ওপিঠ। জিয়াউর রহমানের সামরিক ফরমানেই জন্ম নেওয়া বিএনপি বরাবরই এসব উগ্রবাদী শক্তিকে লালন করেছে, রাজনৈতিক ঢাল হিসেবে ব্যবহার করেছে এবং প্রয়োজনে রক্তপাতের মধ্য দিয়ে রাষ্ট্রীয় কাঠামোকে অকার্যকর করার ছক কষেছে।

বিএনপি কোনো সাধারণ রাজনৈতিক দল নয়। এটি সেনানিবাসের প্রসূত একটি সংগঠন, যার জন্মই হয়েছে গণতন্ত্রের কফিনে শেষ পেরেক ঠুকতে। জিয়াউর রহমানের দুর্নীতি আর সাম্প্রদায়িকতার বিষবৃক্ষ এই দলটির শিকড়ে পানি জুগিয়েছে। অন্যদিকে জামায়াত, ছাত্রশিবির ও তাদের মতো অসংখ্য ইসলামী উগ্রবাদী সংগঠন এই বিষবৃক্ষের ডালপালা। পীর আবদুর রহমান হত্যাকাণ্ড তারই আরেকটি ভয়াবহ প্রমাণ।

বিএনপি ক্ষমতায় থাকতে দেশে জঙ্গিবাদের উত্থান দেখেছে। গোয়েন্দা রিপোর্ট থেকে শুরু করে আন্তর্জাতিক পর্যবেক্ষণ সব জায়গায় বারবার উঠে এসেছে বিএনপি ও জামায়াতের অঙ্গাঙ্গী যোগসূত্রের কথা। তারা প্রকাশ্যে সহাবস্থানের রাজনীতি করলেও ভেতরে ভেতরে একটি অসুস্থ প্রতিযোগিতা চলে, কে কত বেশি মৌলবাদী শক্তি জোগাড় করতে পারে। সেই প্রতিযোগিতার বলি হচ্ছেন এই দেশের সাধারণ মানুষ, পীর আবদুর রহমানের মতো নিরীহ ধর্মপ্রাণ ব্যক্তিরা।

স্মরণ রাখতে হবে, এই বিএনপি আর জামায়াতের অশুভ জোটই একাত্তরের পরাজিত শক্তিকে পুনর্বাসন করেছিল। তারাই যুদ্ধাপরাধীদের বিচার থামাতে ষড়যন্ত্র করেছিল। তারাই দেশের শিক্ষাঙ্গনে সন্ত্রাসের সংস্কৃতি চালু করেছিল ছাত্রশিবিরের মাধ্যমে। কুষ্টিয়ার এই নির্মম হত্যাকাণ্ড সেই ধারাবাহিকতারই নামান্তর।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত