Share
২৬ অক্টোবর জগন্নাথপুরের ইউএনওর কাছে একটি আবেদন জমা পড়েছে। কেশবপুরে কবরস্থান সংলগ্ন এলাকায় গানবাজনাকে অনৈসলামিক বলে তা বন্ধের দাবি জানানো হয়েছে। কবরটা কার? কবি রাধারমণ দত্তের নিজেরই। নিজের শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী যিনি সেখানে সমাহিত হয়েছিলেন, তাঁর নামের আসর এখন তাঁর কবরের দোহাই দিয়েই বন্ধের চেষ্টা চলছে।
ঘটনা শুধু এই একটা নয়। এর আগে দিরাইয়ে অশ্লীলতার আশঙ্কা তুলে বাউলের আসর বন্ধ ঘোষণা হয়েছে। সুনামগঞ্জে নারী বাউলশিল্পীর গান নিয়ে আপত্তি ওঠায় অনুষ্ঠান থেমে গেছে। এপ্রিলে এই জগন্নাথপুরেই সর্বদলীয় তাওহীদি জনতার ব্যানারে ষাঁড়ের লড়াইসহ সব অনৈসলামিক কার্যক্রম বন্ধের দাবিতে সমাবেশ হয়েছে। প্যাটার্ন একটা – আগে আশঙ্কার কথা, তারপর প্রশাসনের দরজায় আবেদন, শেষে আয়োজকদের পিছু হটতে বাধ্য করা।
যুক্তিতেও দাবিটা ধোপে টেকে না। রাধারমণের গানে সুফিবাদের প্রভাব আছে, আর তাঁর পরিচিত গানের তালিকাতেই আছে “মুর্শিদ বলি নৌকা ছাড়ো”। বাংলা একাডেমি তাঁর গীতিমালা প্রকাশ করেছে। শিল্পকলা একাডেমি তাঁর গান সংগ্রহ করে যাচ্ছে। সংস্কৃতি মন্ত্রণালয় তাঁর জন্মভিটায় সাংস্কৃতিক কেন্দ্র গড়ার প্রকল্প হাতে নিয়েছিল। সংবিধানের ২৩ অনুচ্ছেদে রাষ্ট্র জনগণের সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য রক্ষার অঙ্গীকার করেছে। সেই রাষ্ট্রেরই একজন কর্মকর্তার টেবিলে এখন সেই ঐতিহ্য বন্ধের আবেদন পড়ে আছে!
ওই ২৬ অক্টোবরই ঢাকার ধানমন্ডিতে শিল্পীদের মানববন্ধনে শতাধিক পুলিশ জড়ো হয়, কর্মসূচি পণ্ড হয় এবং দুইজনকে আটক করা হয়। সংস্কৃতিকর্মীদের প্রতিবাদ সমাবেশে পুলিশ হাজির, অথচ গান থামানোর আবেদন নিয়ে প্রশাসন নির্বিকার বসে। আর এই পুলিশ ও প্রশাসন চলে আহমেদ ছফা আর আহমেদ শফি নামের স্বঘোষিত দুই ইসলামিক বুদ্ধিজীবীর গুণমুগ্ধ মুরিদ বিএনপি-জামাতের অধীনে, যে বুদ্ধিজীবীদের নামের আগে আহমদ না বসিয়ে “আহাম্মক” বসালেই বরং মানায় বেশি! দেশ তো গোল্লায় যাচ্ছে এমনি এমনি না!
আরো পড়ুন

