Share
এরশাদ যখন বন্দুক ঠেকিয়ে দেশ চালাতেন, তখনও মানুষের বিয়ের পাতে চোখ ছিল তাঁর। ১৯৮৪ সালে ফরমান জারি হলো, ১০০ জনের বেশি মেহমান খাওয়ালেই অপরাধ। আদেশটা চল্লিশ বছর ধুলো খেয়ে পড়ে ছিল। পরের প্রতিটা সরকার বুঝেছিল, মানুষের বিয়েবাড়িতে নাক গলানো মানে নিজেদের রাজনৈতিক কবর খোঁড়া।
বিএনপি সেটা বোঝেনি, বা বুঝেও বোঝেনি।
শাহাদাত হোসেন সেলিম, বিএনপির এমপি, ২২ জুন বাজেট অধিবেশনে উঠে দাঁড়িয়ে দাবি করলেন এই আদেশ চালু করতে হবে। সেদিন দেশে মূল্যস্ফীতি দশের ওপরে। পেঁয়াজ, ডিম, চালের দামে মানুষ হাঁসফাঁস করছে। সেই মুহূর্তে সংসদের মেঝেতে আলোচনা হচ্ছে মেহমানের মাথা গোনা নিয়ে।
আসল কথাটা এখানে না, আসল কথাটা ২০০৩ সালে।
বিএনপি-জামাত তখন ক্ষমতায়। এই আদেশে সংশোধনী এলো। মিলাদ, ইফতার পার্টি, ওরস, কুলখানি, এগুলো আইনের বাইরে চলে গেল। মসজিদে পাঁচশো লোকের দাওয়াত হোক, সরকারকে কিছু দিতে হবে না। কিন্তু আপনার মেয়ের বিয়েতে ১৫০ জন ডাকলে আগে ইউএনও অফিসে ফর্ম ভরুন, ট্রেজারি চালান কাটুন, অনুমতির জন্য অপেক্ষা করুন। না করলে আয়োজক আর কমিউনিটি সেন্টারের মালিক দুজনেই জেলে যাবেন। এই ছাড়টা দুর্ঘটনায় হয়নি। নীতি হিসেবেই হয়েছে। কার উৎসব রাষ্ট্রের চোখে পড়বে আর কার পড়বে না, সেটা বলে দেওয়া হয়েছে।
এই আইন কার্যকর হলে রাজস্ব বাড়বে না, ২৫ টাকার চালানে বাংলাদেশ সরকার চলে না। যা হবে সেটা হলো প্রতিটা ইউএনও অফিস আর ফুড ইন্সপেক্টরের হাতে নতুন একটা অস্ত্র পৌঁছাবে। বিয়ের আগের রাতে ফোন আসবে। সেই ফোনের দাম ২৫ টাকা হবে না, এটা এই দেশের সবাই জানে।
আর এই আদেশে পুলিশ আর খাদ্য অধিদপ্তরের লোককে অনুষ্ঠানস্থলে ঢুকে তল্লাশির ক্ষমতা দেওয়া আছে। মানে বিয়ের গেটে দাঁড়িয়ে মাথা গোনা হবে। এরশাদের আমলে যে আইন দিয়ে এটা করা হতো, সেটাই এখন বিএনপির এমপির পছন্দের অস্ত্র।
তারপরেও যদি কেউ বলেন ২০০১-০৬ ফেরেনি, তর্ক করব না। স্বামী-স্ত্রীর শোবার ঘরে মাসিক হিসেব রেখে ট্যাক্স বসানোটাই এখন বাকি। যুক্তির অভাব হবে না, দেশের আয় বাড়বে, জনসংখ্যাও নিয়ন্ত্রণে আসবে!
আরো পড়ুন

