Share
বাংলাদেশ-পাকিস্তানের সাম্প্রতিক কূটনৈতিক তৎপরতা ও গোপন নথির ভয়াবহ অনিয়ম ঘিরে জাতীয় নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা নিয়ে নতুন করে চরম সংকট তৈরি হয়েছে। পাকিস্তানের ইসলামাবাদে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশন থেকে প্রাপ্ত বিস্ফোরক তথ্যের ওপর ভিত্তি করে দেখা যাচ্ছে, আগামী ডিসেম্বরে আওয়ামী লীগের সভানেত্রী শেখ হাসিনার বাংলাদেশে সম্ভাব্য প্রত্যাবর্তনকে পণ্ড করতে এবং তাকে ঘিরে গভীর ষড়যন্ত্র বাস্তবায়নে একই সময়সীমায় ১৬৬ জন পাকিস্তানি নাগরিককে বাংলাদেশে প্রবেশের ব্যবস্থা করা হচ্ছে।
অভিযোগ উঠেছে, বিএনপি-জামাত জোট সরকারের স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সরাসরি এই ষড়যন্ত্রের পেছনে মদদ দিচ্ছে এবং কোনো ধরনের গোয়েন্দা নিরাপত্তা যাচাই ছাড়াই তড়িঘড়ি করে তাদের ভিসা অনুমোদনের সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে।
প্রাপ্ত তথ্যসূত্রে জানা যায়, ইসলামাবাদে বাংলাদেশ হাই কমিশনে একই সঙ্গে ১৬৬ জন পাকিস্তানি নাগরিকের ভিসা আবেদন জমা পড়েছে। একটি সার্বভৌম দেশের নিরাপত্তা বিধিমালা সম্পূর্ণ উপেক্ষা করে কোনো সুষ্ঠু ব্যাকগ্রাউন্ড চেক বা গোয়েন্দা ছাড়পত্র ছাড়াই আবেদনকারীদের ভিসা দেওয়ার জন্য ওপরমহল থেকে মৌখিক চাপ সৃষ্টি করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রত্যক্ষ নির্দেশে নজিরবিহীন এই গাফিলতি ও সুযোগ তৈরি করে দেওয়া হয়েছে, যা মূলত ১৯৭১ সালের পরাজিত শক্তি পাকিস্তানের সাথে আঁতাত করে জাতীয় নিরাপত্তা ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার জীবনকে চরম ঝুঁকিতে ফেলার এক বিপজ্জনক রাষ্ট্রীয় চক্রান্ত।
আবেদনগুলোর সময়সীমা বিশ্লেষণ করে দেখা যায়, সকল আবেদনকারীর ভিসার প্রস্তাবিত মেয়াদ নির্ধারণ করা হয়েছে ২০ নভেম্বর থেকে ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত। ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার দেশে ফেরার আলোচনা ও রাজনৈতিক পরিমন্ডলের উত্তাপের সাথে এই নির্দিষ্ট সময়সীমার মিলি থাকা নিছক কোনো কাকতালীয় ঘটনা নয়। উপরন্তু, প্রাপ্ত নথিতে দেখা যাচ্ছে মোট তিনটি পৃষ্ঠা রহস্যজনকভাবে অনুপস্থিত।
নথির ১ থেকে ২৮ নম্বর এবং ৫৭ থেকে ৮৩ নম্বর এন্ট্রি—অর্থাৎ মোট ৫৫ জন পাকিস্তানি নাগরিকের পরিচয় সম্পর্কিত তথ্য গোপন করা হয়েছে। স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এই তথ্য গোপন করার অপচেষ্টা এবং নথির ১৪৩ ও ১৬৬ নম্বর এন্ট্রিতে একই ব্যক্তির নাম ও পাসপোর্ট নম্বর দুবার ব্যবহার করার মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ভিসা প্রক্রিয়ায় চরম অনিয়মের প্রমাণ মিলেছে।
একাত্তরের পরাজিত পাকিস্তানি শাসকগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগী চক্রান্তকারীরা স্বাধীন বাংলাদেশের অস্তিত্ব বিনাশে বহুবার ষড়যন্ত্র করেছে। বর্তমান স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মতো রাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ দুটি দপ্তর যদি নিজ দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বকে জলাঞ্জলি দিয়ে বিদেশি গোয়েন্দা ও সন্দেহভাজনদের পথ সুগম করে দেয়, তবে তা সরাসরি রাষ্ট্রদ্রোহিতার শামিল। ১৬৬ জন পাকিস্তানি নাগরিককে যাচাই ছাড়া আনার পেছনে কারা হোস্ট ও স্পনসর হিসেবে কাজ করছে এবং স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কারা এই বেআইনি ভিসা অনুমোদনের নির্দেশ দিয়েছে, তাদের চিহ্নিত করে অভিলম্বে স্বচ্ছ নিরপেক্ষ তদন্তের মুখোমুখি দাঁড় করানো এখন সময়ের দাবি। রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা ও দেশের স্থায়িত্ব রক্ষায় অবিলম্বে এই অসম্পূর্ণ ও সন্দেহজনক ভিসা আবেদন প্রক্রিয়া বাতিল করে পূর্ণাঙ্গ তথ্য দেশবাসীর সামনে প্রকাশ করার জোর আহ্বান জানাচ্ছে সচেতন মহল।
আরো পড়ুন

