তিন মাসে ইমামতি করে খেলা পনেরো লাখের জুয়া!

Share

জুয়ায় হারার পুঁজি জোগাতে মসজিদের মেহরাবকে বেছে নিয়েছিলেন মুফতি মিজানুর রহমান। মেলান্দহের মালঞ্চ কেন্দ্রীয় জামে মসজিদে ইমাম ও খতিব হিসেবে যোগ দেওয়ার তিন মাসের মাথায় মুসল্লিদের কাছ থেকে তার টাকা নেয়া শুরু হয়। অঙ্কটা অন্তত ১৫ লাখ। ইমামের বেতনে এ টাকা ওঠে না, উঠেছে ইসলামকে ভাঙিয়ে।

এই ব্যবসার মূলধন ছিল একটাই, দাঁড়ি-টুপির প্রতি মানুষের অন্ধ আস্থা। যে লোক পাঁচ ওয়াক্ত সামনে দাঁড়িয়ে নামাজ পড়ান, তার কাছে কেউ রসিদ চায় না, জামানত চায় না, ফেরতের তারিখও লিখিয়ে নেয় না। মিজানুর সেই সুযোগটাই কাজে লাগালেন। আগে সখ্যতা গড়ে তোলেন, তারপর প্রলোভনের টোপ, তারপর অজুহাত। ৭ অক্টোবর রাতে হলেন স্ত্রী-সন্তানসহ উধাও।

পালিয়েও ছিলেন তিনি বেশ গুছিয়ে। পুলিশের তদন্ত কর্মকর্তা জানিয়েছেন, তিনি সময়ে সময়ে সিম বদলাতেন। শেষে ধরা পড়লেন কুমিল্লায়, নিজের কায়দাতেই। এক ব্যক্তির হাত দিয়ে আগে দশ হাজার টাকা পাঠানো হলো, পরে আরও দেওয়ার কথা বলে ডেকে এনে গ্রেফতার। যে লোভ দেখিয়ে তিনি অন্যকে ঠকাতেন, সেই লোভেই আটকালেন।

জিজ্ঞাসাবাদে জুয়ার টাকা জোগাড়ের কথা তিনি নিজেই স্বীকার করেছেন। ওসি জানিয়েছেন, দেশের অন্য জায়গাতেও একই কায়দায় টাকা হাতানোর মামলা আছে তার বিরুদ্ধে। তার মানে মালঞ্চ প্রথম নয়, পুরোনো মামলার ইতিহাস নিয়ে তিনি নতুন মসজিদে ঢুকেছিলেন। নিয়োগের আগে একবার খোঁজ নিলেই যে তথ্য পাওয়া যেত, তার দাম দিতে হলো মুসল্লিদের।

যার মুখে হালাল-হারামের ওয়াজ, তিনিই হারামের খরচ মেটালেন অন্যের আমানতে। লিল্লাখোর মোল্লাদের থেকে এর চেয়ে বেশি আর কি-ইবা আশা করা যায়!

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত