Share
সাভারে সুরেশ্বর পীরের ছেলে কাজী জাবের আল জাহাঙ্গীরের পারিবারিক ওরস বন্ধ করতে রাস্তায় নামল ‘তৌহিদি জনতা’। মুখে ধর্মের কথা, পেছনে সরাসরি বিএনপি, জামায়াত, যুবদল আর হেফাজতের নেতাকর্মীরা। প্রশাসন বরাবর স্মারকলিপি দিলেও আসল বার্তা একটাই, ভিন্নমত আর সুফি সাধকের ঘর এখানে চলবে না।
সাভার উপজেলা প্রশাসন ও থানায় জমা পড়া স্মারকলিপিতে স্বাক্ষর করেছে দশজন। তালিকা দেখলে পরিষ্কার, বিএনপির দুই নেতা, যুবদলের এক নেতা, জামায়াতের এক কর্মী, হেফাজতের তিন নেতা, খেলাফত আন্দোলন আর জমিয়তের নেতারা মিলেই সাজানো ‘তৌহিদি জনতা’ নামের এই চাপপ্রয়োগ। ওরস বন্ধ না হলে কী হবে, তা বুঝিয়ে দিতে এর আগে কাজী জাবেরের বাড়িতে হামলা, লুটপাট আর অগ্নিসংযোগের ঘটনাও টেনে আনা হচ্ছে প্রকাশ্যে। অথচ সেই হামলার মামলা চলমান।
কাজী জাবের বলছেন, ঊনিশ বছর ধরে বাবার ওফাত উপলক্ষে ঘরোয়াভাবে ওরস হচ্ছে। এবারও বাড়ির ভেতরেই হবে, বাইরে মাইক বা প্যান্ডেল নেই। তারপরও হামলার আশঙ্কা থেকেই প্রশাসনের দ্বারস্থ তিনি। অন্যদিকে হেফাজত নেতার ভাষ্য, ‘এলাকার মুসল্লি আর আলেমরা আমাদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।’ বিএনপি নেতার কথা আরও খোলাখুলি, ‘এক পক্ষ চাচ্ছে না, তাই ভিন্নমত তৈরি হয়েছে।’ যুবদল নেতা তো বলেই দিলেন, ‘আমরা তৌহিদি জনতার পক্ষে।’
অর্থাৎ ভিন্নমত তৈরি হওয়াই অপরাধ। কেউ সুফি সাধক, কেউ ওরস করবেন, এটা মানতে নারাজ ক্ষমতাসীন বিএনপি-জামাত-হেফাজতের নেতারা।
সাভারে ওরস বন্ধের দাবি কেবল একটি পরিবারের বিরুদ্ধে ক্ষোভ না, এটা সংখ্যালঘু মত আর সুফি ধারার ওপর জোটের রাজনৈতিক আগ্রাসনের মহড়া। প্রশাসন স্মারকলিপি নিল, কিন্তু রাস্তার শক্তি কার দখলে, সেটা এখনই পরিষ্কার।
আরো পড়ুন

