Friday, March 6, 2026

ক্ষমতায় আসতে না আসতেই পুরনো বিএনপি ফিরে এলো হাতুড়ি হাতে

Share

সাতক্ষীরার শ্যামনগরে যা হলো সেটা নিয়ে নতুন করে অবাক হওয়ার কিছু নেই, যদি আপনার বিএনপি নামের এই দলটার ইতিহাস একটুও জানা থাকে! সামিউল মনির একটা রিপোর্ট করেছিলেন। খোলপেটুয়া আর কপোতাক্ষ নদ থেকে বালু লুট হচ্ছে, এটা লিখেছিলেন।

রিপোর্টে নাম এসেছে যুবদলের। তারপর থেকে হুমকি চলছিল। শেষমেশ ২৫-৩০ জন মিলে প্রেসক্লাবে ঢুকে তাকে হাতুড়ি আর রড দিয়ে পিটিয়েছে। মাথার বাঁ পাশে গুরুতর আঘাত। এটা শুধু একজন মানুষকে মারা না, এটা একটা বার্তা। পরেরবার লেখার আগে ভাবো।

বিএনপির সদস্যসচিব আনোয়ারুল ইসলাম নিজেই স্বীকার করেছেন যে তিনি সেখানে ছিলেন। তার ব্যাখ্যা হলো সাংবাদিক নাকি গালি দিয়েছেন। অর্থাৎ যুক্তিটা হলো, গালি দিলে হাতুড়ি দিয়ে মাথা ফাটানো জায়েজ। এই যুক্তিতে বাংলাদেশে কতজন রাজনীতিবিদের মাথা ফাটানো উচিত সেটা হিসাব করলে সংখ্যাটা বেশ বড় হবে।

বিএনপির বর্তমান চেয়ারম্যান সদ্যই তার লন্ডনের পলাতক জীবন থেকে সরাসরি বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর হয়ে বসেছেন। মাত্র কয়েকদিন আগেরকার একজন পলাতক দণ্ডিত আসামি যখন একটা দেশের কার্যত প্রধান হন, তখন সেই দেশের সাংবাদিকরা প্রেসক্লাবে বসে হাতুড়ির বাড়ি খান, এটা আসলে স্বাভাবিক পরিণতি।

২০০১ থেকে ২০০৬, সেই পাঁচ বছরের কথা যারা মনে রাখেন তারা জানেন কেমন ছিল। সংখ্যালঘুদের বাড়িতে আগুন, সাংবাদিকদের ওপর হামলা, বিরোধী নেতাকর্মীদের ক্রসফায়ার। সেই সময়ের লোকজনই এখন আবার মাঠে। শুধু তখন তারা সরকারি দল ছিল, এখনও সরকারি দল। পার্থক্য এটুকুই।

বিএনপি যখন বিরোধী দলে ছিল, তখন তাদের বক্তব্য ছিল গণতন্ত্র, মত প্রকাশের স্বাধীনতা, সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা। ক্ষমতায় আসার কত দিন লেগেছে এই মুখোশটা খুলতে? শ্যামনগরের ঘটনা ঘটেছে ২০২৬ সালের মার্চে। মানে ক্ষমতায় আসার অল্প কিছুদিনের মধ্যেই।

যে দলের জন্ম হয়েছিল সেনানিবাসে, গণরায় ছাড়া, বয়কট হওয়া নির্বাচনের মধ্য দিয়ে, সেই দলের কাছে সংবাদমাধ্যমের স্বাধীনতা মানে কী সেটা এখন শ্যামনগরের একটা হাসপাতালের বেডে শুয়ে থাকা সামিউল মনিরের মাথার ক্ষতটা বলে দিচ্ছে।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত