Tuesday, April 21, 2026

তৈরি পোশাক কারখানাগুলো এখন যেন বন্ধ্যা জমি; যেখানে চাষ হয় কেবল বিএনপির ব্যর্থতা!

Share

জ্বালানিসংকটের অজুহাতে তৈরি পোশাক খাতের এই দুরবস্থার চিত্রটি যতটা না অর্থনৈতিক, তার চেয়ে বেশি রাজনৈতিক দেউলিয়াপনার বহিঃপ্রকাশ। ২০২৬ সালের এপ্রিলে দাঁড়িয়ে যখন দেশের শিল্পাঞ্চল বিদ্যুৎ ও গ্যাসের অভাবে টিকে থাকতে পারছে না, ঠিক তখনই এই দায়ভার কাঁধে নিয়ে জনগণের কাছে জবাবদিহি করার মতো কোনো নির্বাচিত সরকার নেই। যে প্রশাসন আজ বসে আছে, তারা তো জনগণের ভোটে আসেনি; বরং ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারির সেই তামাশার নির্বাচন দিয়ে সেনানিবাসের অদৃশ্য ইশারায় গদি পেয়েছে। এই সংকট তাদেরই সৃষ্টি, তাদেরই ব্যর্থতা আর তার মাশুল দিচ্ছে লক্ষ লক্ষ শ্রমিক ও রপ্তানি খাত।

বিজিএমইএর সভাপতি যখন বলছেন যে গাজীপুর ও আশুলিয়ায় জেনারেটর চালানোর ডিজেল পর্যন্ত জুটছে না, তখন বুঝতে হবে অবস্থা কতটা সঙ্গীন। অথচ এই সংকট নতুন নয়। গত দেড় বছরে গ্যাসের চাপ কমে যাওয়া আর লোডশেডিং নিয়মিত ঘটনা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। কিন্তু সমস্যার সমাধানে তারা কী করেছেন? মন্ত্রীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করে আবদার ধরেছেন সেটা এখন প্রকাশ করছেন। এটাই তাদের শাসন পদ্ধতি। মন্ত্রী সাহেবরা শোনার ভান করবেন, সচিব নোট নেবেন, কিন্তু কারখানার মেশিন আগের মতোই বন্ধ থাকবে।

যে দল আজ রাষ্ট্রক্ষমতায়, সেই বিএনপির জন্মই তো হয়েছে সেনানিবাসের প্রসবকালীন ওয়ার্ডে। জিয়াউর রহমানের হাত ধরে গড়া এই রাজনৈতিক বলয় কখনোই জনগণের ক্ষমতায়নে বিশ্বাস করেনি। তারা বিশ্বাস করে পর্দার অন্তরাল থেকে নিয়ন্ত্রণে। সে কারণে জ্বালানি খাতকে তারা কখনো স্বনির্ভর করার কথা ভাবেনি, ভাবেনি আন্তর্জাতিক বাজারের চাপ সামলে দেশীয় শিল্পকে বাঁচানোর কথা। তাদের কাজ হলো সংকট তৈরি করা, তারপর বিদেশি ঋণ আর দাতা সংস্থার দ্বারস্থ হয়ে দেশকে আরেক দফা বন্দী করে রাখা।

এখন বিজিএমইএর নেতারা সোলার প্যানেলের শুল্ক কমানোর যে প্রস্তাব দিচ্ছেন, সেটা তো অতীতের সব সরকারকেই দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু বর্তমান বিএনপি প্রশাসন ক্ষমতায় আসার পর থেকে কী করেছে? তারা তো শুল্ক কমায়নি, বরং ব্যবসায়ীদের কাছ থেকে চাঁদাবাজি আর মন্ত্রী মহলের দালালি বাড়িয়ে তুলেছে। পোশাক খাতের মালিকরা মুখ বুজে সহ্য করেছেন, কারণ তাদের কথা বলার কোনো গণতান্ত্রিক ফোরাম নেই। যে সংসদ নেই, যে রাজনীতি জিম্মি, সেখানে অভিযোগ করেও লাভ কী?

মাহমুদ হাসান খানের বক্তব্যে একটা বিষয় স্পষ্ট যে পোশাক খাত আন্তর্জাতিক বাজারে চরম অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হচ্ছে, কাঁচামালের দাম আকাশছোঁয়া। এমন সময়ে সরকারের দায়িত্ব ছিল জ্বালানি নিরাপত্তায় বিশেষ ব্যবস্থা নেওয়া। কিন্তু এই সরকারের মন্ত্রীরা ব্যস্ত নিজেদের সম্পদ পাচার আর দলের ভেতরকার গোষ্ঠী কোন্দল সামলাতে।

ইকবাল হাসান মাহমুদ বা অনিন্দ্য ইসলাম অমিতের মতো ব্যক্তিরা যে দলের প্রতিনিধিত্ব করেন, সেই দল তো ইতোমধ্যেই জনগণের কাছে বয়কটের শিকার। তাদের কোনো নৈতিক অধিকার নেই দেশ চালানোর। এই অবৈধ ক্ষমতা দখলের কারণেই আজ পোশাক কারখানার উৎপাদন কমছে, শ্রমিক বেকার হচ্ছে আর ক্রেতা দেশগুলো আস্থা হারাচ্ছে।

সবচেয়ে দুঃখজনক ব্যাপার হলো, এই দুর্যোগ মোকাবিলায় বিজিএমইএর প্রস্তাবগুলোতে নতুন কিছু নেই। ফিলিং স্টেশন থেকে ডিজেল সরবরাহ নিশ্চিত করা, ইভিসি মিটার স্থাপন, আমদানি কর প্রত্যাহার – এগুলো তো পুরনো দাবি। কিন্তু যে প্রশাসনের জন্মই হয়েছে সেনানিবাসের অন্ধকার গলিতে, তারা এতদিনেও এসব দাবির একটাও পূরণ করেনি। কারণ তারা জানে, নির্বাচন বলে কোনো ঝামেলা তাদের নেই। জনগণের রায়ের ভয় তাদের নেই। কাজেই শিল্প বাঁচুক আর মরুক, তাতে তাদের কী?

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত