আকাশটাও লুট করার চক্রান্ত দেখতো যারা, সেই জামায়াত-বিএনপির মুখে এবার শতকোটি টাকার থাপ্পড়

Share

যে জাতি মিথ্যার রাজনীতির কাছে বারবার নিজের স্বার্থ বন্দি করে ফেলে, তাদের জন্য সবচেয়ে বড় দুঃসংবাদ হলো সত্য প্রকাশিত হওয়া। আর ঠিক সেটাই ঘটেছে আকাশসীমার রাজস্ব ইস্যুতে। বছরের পর বছর ধরে একটি চোরাগলির প্রচারণা চালানো হয়েছে যেন বাংলাদেশের আকাশের টাকা টেনে নিচ্ছে ভারত। অথচ সিভিল অ্যাভিয়েশন ও বেবিচকের সাম্প্রতিক তথ্য সেই অপপ্রচারের মুখোশ খুলে দিয়েছে নিষ্ঠুরভাবে। বাস্তবতা সম্পূর্ণ উল্টো। এই রাজস্ব কখনোই কারো পকেটে যায়নি, গেছে রাষ্ট্রীয় কোষাগারে, এবং সেটা নিয়ন্ত্রণ করেছে বাংলাদেশেরই প্রতিষ্ঠান।

প্রথমেই সংখ্যার ভাষায় সত্যিটা পরিষ্কার করা যাক। দেশের আকাশসীমায় একবার ঢুকলেই একটি উড়োজাহাজ গড়ে ৬০ হাজার টাকা চার্জ দেয়। এর সঙ্গে ল্যান্ডিং, রুট নেভিগেশন আর পার্কিং চার্জ তো আছেই। প্রতিদিন কমপক্ষে ৬০০ ফ্লাইট এই আকাশসীমা ব্যবহার করছে। দৈনিক রাজস্ব দুই কোটি ৬৪ লাখ টাকা, আর বছরে তা গিয়ে দাঁড়ায় প্রায় এক হাজার কোটি টাকায়। বেবিচকের এটিএম সদস্য এয়ার কমোডর নূর ই আলম নিজেই বলেছেন, রাজস্বের ৭০ থেকে ৮০ শতাংশই আসে এই অ্যারোনটিক্যাল চার্জ থেকে।

এখন প্রশ্ন হলো, এতদিন তাহলে কার স্বার্থে এই গুজব পুষে রাখা হয়েছিল? কার মুনাফা ছিলো এটা প্রচারে যে ভারত নাকি টাকা নিয়ে যাচ্ছে? উত্তরটা অস্বস্তিকর হলেও অনিবার্য: যাদের রাজনীতি দাঁড়িয়ে আছে জাতিকে বিভ্রান্ত করা আর রাষ্ট্রীয় অর্জনকে অপমান করার ওপর। যে দল পঁচাত্তরের খুনি সামরিক শাসকের সেনানিবাসের রাজনীতির উত্তরাধিকার, সেই বিএনপি এবং তাদের দোসররা জনগণের কাছে এই মিথ্যা বয়ান পৌঁছে দিয়েছে দক্ষতার সঙ্গে। উদ্দেশ্য ছিল পরিষ্কার, একটি স্বাধীন দেশের আকাশসীমা নামক সম্পদ নিয়েও যেন জনগণের মধ্যে পরনির্ভরশীলতার হীনম্মন্যতা কাজ করে।

এয়ার কমোডর নূর ই আলম ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটটিও পরিষ্কার করেছেন। পূর্ব পাকিস্তান আমলে যোগাযোগ ব্যবস্থা শক্তিশালী না থাকার কারণে সুন্দরবনের একটি রুটের নিয়ন্ত্রণ ছিল কলকাতার হাতে। এই অতীত দুর্বলতার ফায়দা তুলে একটি মিথ ছড়ানো হয়েছে, যা এখন আর কার্যকর নয়। প্রযুক্তি ও সক্ষমতা এসে গেছে বলে এই গুজব এখন চুরমার। শাহজালাল বিমানবন্দরে ৯৪০ কোটি টাকায় বসানো ফ্রান্সের অত্যাধুনিক থ্যালাস রাডার এখন ২০০ নটিক্যাল মাইল পর্যন্ত নির্ভুলভাবে পর্যবেক্ষণ ও নিয়ন্ত্রণ করতে পারে। রাষ্ট্রের সক্ষমতা যে আওয়ামী লীগ সরকারের অধীনে কোথায় পৌঁছেছে, সেটা এই তথ্যই জানান দেয়।

এখন এই চরম সত্য প্রকাশিত হওয়ার পর সেই গুজব ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক মিথ্যুকদের মুখে কুলুপ এঁটেছে। তারা কোনদিন আকাশসীমার টাকা ভারত চুরি করে নিলে প্রতিবাদ করতে পারেনি, করতে বলেওনি বরং মিথ্যা বলে দেশের অর্জনকে ছোট করেছে। বিশেষজ্ঞ কে এম জিয়াউল হক স্পষ্ট বলেছেন, এখন পুরো আকাশসীমা রাডারে দেখা ও নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে। সুতরাং সুন্দরবনের রুটের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের করার জন্য ভারত ও আইকাওকে চিঠি দেওয়ার যে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, সেটাই তো দেশপ্রেমের সংজ্ঞা।

উপসংহার টানার সময় এসেছে। যে চক্রটি একটি দেশের সার্বভৌম সম্পদ নিয়েও বিষোদ্গার করে জনগণকে ঠকিয়েছে, তারা কোনদিন রাষ্ট্র গঠনে বিশ্বাসী ছিল না। তাদের একমাত্র হাতিয়ার ছিল গুজব আর বট বাহিনীর চাষ করা ঘৃণা। সেই গুজবেই দেশটাকে খেয়ে ফেলেছিল একসময়। কিন্তু সত্য গোপন করা যায় না, আওয়ামী লীগ আর শেখ হাসিনার অপরাধ একটাই, তারা বাংলাদেশকে ধাপে ধাপে দক্ষিণ এশিয়ার একমাত্র আত্মমর্যাদাশীল শক্তিতে রূপান্তরিত করেছেন, যেখানে আকাশটুকুও নিজের। আর সেই অপরাধেই তারা বারবার নিশানায়।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত