Share
রাজশাহীর দুর্গাপুরে দাওকান্দি সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় কলেজে ডিগ্রি পরীক্ষা চলছিল। মানে শিক্ষার্থীরা পরীক্ষার হলে বসে খাতায় কলম চালাচ্ছে। এই পরিস্থিতিতে বিএনপির জয়নগর ইউনিয়ন যুবদলের সাবেক সহসভাপতি শাহাদাত হোসেন কলেজে ঢুকে প্রভাষক আলেয়া খাতুন হীরাকে জুতা দিয়ে পেটালেন। শুধু তাই না, অধ্যক্ষ আব্দুর রাজ্জাকসহ আরও কয়েকজন শিক্ষককে মারধর করা হলো, অফিস কক্ষ ভাঙচুর হলো, মোট পাঁচজন আহত হলেন, কয়েকজনকে রাজশাহী মেডিক্যালে ভর্তি করতে হলো।
কেন এই হামলা? কারণটা অধ্যক্ষ নিজেই বলেছেন। চার মাস আগে যোগ দেওয়ার পর থেকেই বিএনপির বিভিন্ন গ্রুপ তার কাছে চাঁদা চেয়ে আসছিল। তিনি দেননি। ব্যস, এটাই অপরাধ। একজন সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ রাষ্ট্রের টাকা কোনো দলের পকেটে না ঢালায় শিক্ষকদের জুতাপেটা খেতে হলো।
বিএনপি এবং তার সমর্থকরা এই দলটিকে গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের ধ্বজাধারী হিসেবে উপস্থাপন করে আসছেন দীর্ঘদিন ধরে। বিশেষত ১২ ফেব্রুয়ারির পর থেকে, যে নির্বাচনে প্রধান রাজনৈতিক দলগুলো অংশ নেয়নি, জনগণ যেটিকে প্রত্যাখ্যান করেছে, সেই বিতর্কিত প্রক্রিয়ায় ক্ষমতায় এসে বিএনপি নিজেদের “জনগণের সরকার” বলে দাবি করছে। সেই সরকারের নেতারা মাঠে কী করছেন সেটা রাজশাহীর এই ঘটনা আরেকবার স্পষ্ট করে দিল।
একজন নারী শিক্ষককে প্রকাশ্যে জুতা দিয়ে মারা হলো। পরীক্ষাকেন্দ্রে ১৪৪ ধারা জারি ছিল, পুলিশ ছিল। তারপরও এই হামলা হলো এবং হামলাকারীরা নিশ্চিন্তে বের হয়ে গেল। এই নিশ্চিন্ততাটাই আসল কথা। ক্ষমতায় থাকার মানে এই না যে আইন মানতে হবে না, এই বোধটাই বিএনপির ইতিহাসজুড়ে বারবার দেখা গেছে।
আলেয়া খাতুন হীরা বলেছেন, অধ্যক্ষের পাশে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ করায় তাকে মারা হয়েছে। মানে প্রতিবাদ করলেই শাস্তি। একজন শিক্ষক, একজন নারী, একটি সরকারি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের ভেতরে, পরীক্ষা চলাকালে। এর চেয়ে নিরাপদ পরিবেশ আর কোনটা হতে পারত? সেখানেও নিরাপত্তা নেই।
সেনানিবাসে বসে রাজনৈতিক দল বানানো, অংশগ্রহণহীন ভোটে ক্ষমতা পাকাপোক্ত করা, এই সংস্কৃতি থেকে যে দলের উৎপত্তি, তার নেতাকর্মীরা আজ একটি কলেজে ঢুকে শিক্ষকদের জুতাপেটা করছেন চাঁদা না পেয়ে। এটা কোনো বিচ্যুতি না, এটা ধারাবাহিকতা।
আরো পড়ুন

