Share
ইসলামী বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে এখন এক অদ্ভুত ‘জোরপূর্বক ধর্মান্তকরণ’ চলছে প্রশাসনের এক কলমের খোঁচায়। কুষ্টিয়ার এই ক্যাম্পাসে ২০২৫-২৬ সেশন থেকে হিন্দু, বৌদ্ধ, খ্রিস্টান সব শিক্ষার্থীকেই ক্রেডিট কোর্স হিসেবে গিলতে হবে ইসলামিক স্টাডিজ। ক্লাসরুম যেন হারাচ্ছে তার চিরায়ত চরিত্র, হয়ে উঠছে মোল্লাতন্ত্রের পরীক্ষাগার।
আপনি ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ুন কিংবা বাংলা সাহিত্য, চার ক্রেডিটের এই ধর্মীয় ডোজ আপনার জন্যই। সিলেবাস তৈরি, ভর্তিও শেষ। আগস্টে যখন ক্লাস শুরু হবে, তখন একজন খ্রীষ্টান বা সনাতন শিক্ষার্থীকে বাইবেল বা গীতার বদলে পড়তে হবে ইসলামি ফিকাহ। এটা শিক্ষা নয়, এটা বন্দুক ঠেকিয়ে ধর্মীয় আগ্রাসন চাপিয়ে দেওয়ার নামান্তর।
বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের কথা, একাডেমিক কাউন্সিলে সিদ্ধান্ত হয়েছে, সুতরাং আর বদলাবে না। অথচ সেই কাউন্সিলেই সদস্যদের মুখে ছিল আপত্তির ঝড়, যা কাগজে-কলমে উধাও করে দেওয়া হয়েছে কৌশলে। ক্ষমতার জোরে সংখ্যাগুরুদের ধর্মকেই পাঠ্যবই বানানো হচ্ছে, যেন সংখ্যালঘুরা মাথা নোয়াতে বাধ্য হয়।
হিন্দু শিক্ষার্থী আর পূজা উদযাপন পরিষদের বারবার দরবার, স্মারকলিপি, মানববন্ধন কোনোটাই টলাতে পারেনি সাবেক উপাচার্য নকীব মোহাম্মদ নসরুল্লাহর জামায়াতি মানসিকতার দেয়াল। বরং উল্টো ছাত্র উপদেষ্টা হয়ে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে, প্রশাসনের কিছু করার নেই, কাউন্সিলের সিদ্ধান্তই শেষ কথা। এই নির্লজ্জ ঔদ্ধত্য আর ঔদাসীন্য আসলে কার নির্দেশে চলছে, তা বুঝতে কারও বাকি থাকার কথা নয়।
অথচ অধ্যাপক মনজুর আহমদ যেটা বলেছেন, সেটাই আসল কথা। ইসলামিক স্টাডিজ দিতে গিয়ে অন্য ধর্মের প্রতি সম্মানটুকুও যেন রাখা হয়। কিন্তু এই অপশাসনে সম্মানের বালাই নেই, আছে শুধু আনুগত্যের ছাপ। সরকারি পৃষ্ঠপোষকতায় একটি ধর্মকে বিশেষায়িত করে বিশ্ববিদ্যালয় বানানো আর সেই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভিন্ন ধর্মাবলম্বীদের জোর করে সেই ধর্ম গেলানো, এর চেয়ে বড় সাম্প্রদায়িক চিন্তা আর কিছু হতে পারে না।
আরো পড়ুন

