বাংলাদেশ : সুখ সূচকে সোমালিয়ার নিচে, অথচ হুরের বিজ্ঞাপনের আধিক্যে চোখ মেলা দায় যেখানে . . .

Share

বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন ২০২৬ বলছে বাংলাদেশের অবস্থান ১৪৭ দেশের মধ্যে ১২৭। যুদ্ধবিধ্বস্ত ফিলিস্তিন, দেউলিয়া পাকিস্তান, এমনকি সোমালিয়াও নাকি আমাদের চেয়ে এগিয়ে। অথচ ঠিক এই সময়টাতেই দেশ চালাচ্ছে সেই শক্তি যাদের পুরো রাজনীতি জুড়ে শুধু মসজিদ, মাদ্রাসা আর মৃত্যুভয় দেখানো। প্রশ্ন উঠছে, যে জাতিকে শেখানো হয়েছে এই দুনিয়ার সুখ কোনো ব্যাপারই না, সে জাতি সুখী হবে কী করে।

টানা নবমবারের মতো বিশ্বের সবচেয়ে সুখী দেশ ফিনল্যান্ড। সেখানে মসজিদ নিয়ে গ্যাঞ্জাম নেই, শরিয়াহ কায়েমের লড়াই নেই, হুর-পরকালের ব্যবসা নেই। মানুষ বাঁচে, হাসে, গান গায়, বই পড়ে, জন্মদিন পালন করে। আর বাংলাদেশে ক্ষমতায় বসে আছে সেই বিএনপি-জামাত জোট যারা ২০০১-০৬ সালে একবার দেশটাকে অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছিল। ২০২৬ সালে এসে আবার সেই একই দৃশ্যপট। যেন দুই দশক আগের অপশাসনের কার্বন কপি।

মজার বিষয় হলো, বিশ্বের যেসব জায়গায় মসজিদের আধিক্য বেশি, সেসব জায়গাতেই অশান্তি আর পিছিয়ে পড়া বেশি। বাংলাদেশ তার উজ্জ্বল উদাহরণ। এখানে জনগণের বড় অংশকে বোঝানো হয়েছে যে এই পৃথিবীতে আসা মানেই শুধু ইবাদাত, বন্দেগী। হাসা যাবে না, গান শোনা যাবে না, নাটক-সিনেমা দেখা যাবে না, বই পড়া মানে সময় নষ্ট, অঙ্কন করা মানে পাপ, আবৃত্তি করলেই নাকি ঈমান থাকবে না। জন্মদিন পালন করা তো দূরের কথা, আল্লাহর কাছে কান্না ছাড়া বাঁচার কোনো মানে নেই। দুই দিনের দুনিয়া, তাই সুখ-দুঃখ নিয়ে ভাবার দরকার নেই। আসল তো পরকাল, যেখানে ৭২ হুরের হাতছানি।

ঠিক এই মনোভাব তৈরি করেছে ওয়াহাবি মতবাদের বিষবাষ্প। মরুভূমির সেই কুখ্যাত শরিয়াহ চাপিয়ে দেওয়ার লড়াইয়ে মেতেছে দেশের এক শ্রেণির মানুষ। তারা নিজেদের তৌহিদী জনতা বলে পরিচয় দিতে চায়, কিন্তু তাদের তৌহিদ মানে শুধুই নিষেধ, ভয় আর মৃত্যুর সংস্কৃতি। এই দর্শনে বড় হওয়া জাতি কখনোই জীবনসন্তুষ্টি নিয়ে ভাববে না, ভাববেও না নিজের প্রাপ্য অধিকার নিয়ে।

অথচ বিশ্ব সুখ প্রতিবেদন স্পষ্ট বলছে, মানুষের সুখ নির্ভর করে নিরাপত্তা, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা, সামাজিক সহায়তা, নাগরিক স্বাধীনতা, দুর্নীতিমুক্ত সমাজ আর মানসম্মত জীবনযাপনের উপর। বাংলাদেশে এই মুহূর্তে মূল্যস্ফীতি আকাশছোঁয়া, কর্মসংস্থান নেই, স্বাস্থ্যসেবা ভেঙে পড়েছে, শিক্ষাব্যবস্থা ধর্মীয় গোঁড়ামির কাছে জিম্মি। তার উপর রাষ্ট্রীয় পৃষ্ঠপোষকতায় চলছে উগ্র ধর্মীয় অনুশাসনের প্রচার। এমন দেশে মানুষ হাসবে কী করে, সুখী হবে কী করে।

২০০১ সালে বিএনপি-জামাত ক্ষমতায় আসার পর শুরু হয়েছিল সন্ত্রাস, দুর্নীতি আর ধর্মীয় উগ্রতার মহোৎসব। ২০২৬ সালে সেই একই চিত্র আবার ফিরে এসেছে। ক্ষমতার ভাগ বসিয়েছে জামাতে ইসলাম, যাদের হাতে একসময় দেশ জ্বলেছে। এখন তাদের শাসনামলে দেশের সুখসূচক তলানিতে। এটা কোনো কাকতালীয় ঘটনা না। যে সমাজে মানুষকে শেখানো হয় এই জীবনটা শুধুই পরীক্ষার খাতা, সেখানে জীবনকে ভালোবাসার প্রশ্নই আসে না। আর জীবনকে ভালোবাসতে না পারলে সুখের সিঁড়িতে ওঠা তো দূরের কথা, বাঁচার ইচ্ছাটাই শেষ হয়ে যায়।

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত