তৌহিদিস্তানের পথে বাংলাদেশ: নদীর দেশে নৌকাবাইচও এখন নিষিদ্ধ!

Share

ওসি বলছেন তৌহিদি জনতা বলে কিছু নেই, এটা গুজব। অথচ সেই “গুজব”-এর শর্তেই এবারের নৌকাবাইচ চলবে, পরের বছর থেকে বন্ধ। যে গোষ্ঠীর অস্তিত্বই স্বীকার করছেন না প্রশাসন, তার হুকুমেই একটা শত বছরের ঐতিহ্য নদী থেকে চিরতরে সরিয়ে দেওয়া হচ্ছে। এই দ্বিচারিতাটা বোঝা দরকার। প্রশাসন দায় এড়িয়ে যাচ্ছে, আর মাঠপর্যায়ে কাজটা ঠিকই হয়ে যাচ্ছে চাপ দেওয়া গোষ্ঠীর ইচ্ছামতো।

কিশোরগঞ্জে কনসার্ট বন্ধ হলো, ডিসি বললেন আয়োজকদের অনুমতিপত্র ছিল না। কারণ হিসেবে কাগজ দেখানো হলো, আসল চাপটা আড়াল করা হলো। ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গানবাজনা নিষিদ্ধ, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী নিজেই বললেন ওখানকার নিয়ম আলাদা। মানে রাষ্ট্র নিজেই মেনে নিচ্ছে, একেক জেলায় একেক গোষ্ঠীর ফতোয়া চলবে, প্রশাসন শুধু সিলমোহর দেবে।

এই একই রাষ্ট্রে কোনোদিন কোনো গোষ্ঠী দাবি তোলেনি ঘুষ বন্ধ করার, ধর্ষণ বন্ধ করার, মাদক বন্ধ করার। দাবি ওঠে শুধু গান বন্ধ করার, নাচ বন্ধ করার, নৌকাবাইচ বন্ধ করার। অপরাধ বাড়লে কারো আপত্তি নেই, আনন্দ টিকে থাকলেই আপত্তি। এটাই আসল চেহারা- ধর্মের নামে আসলে টার্গেট মানুষের হাসিখুশি থাকার অধিকার।

২০০১-০৬ এর বিএনপি-জামাত জমানার যে চিত্র মানুষ ভুলতে বসেছিল, সেটাই এখন ফিরছে ধাপে ধাপে, জেলায় জেলায়। আজ সিলেট, কাল আরেক জেলা, পরশু হয়তো পুরো দেশ। নদীমাতৃক বাংলায় নৌকাবাইচ যদি তথাকথিত এই “গুজবের” কাছে হার মানে, তাহলে বুঝতে আর বাকি থাকলো কি যে এই দেশ আসলে কারা চালাচ্ছে!

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত