কূটনৈতিক আক্কেলের অভাবে নিজের প্যান্ট তো নিজেই খুলে ফেলেছেন তারেক, বাকিটা এখন সময়ের অপেক্ষা মাত্র!

Share

ঘটনারটা শুরু হচ্ছে ফেব্রুয়ারি থেকে। ক্ষমতা দখলের কয়েকদিনের মাথায় ভারত সরকার তারেক রহমানকে দ্বিপাক্ষিক সফরের আমন্ত্রণ জানায়, আর সেটা মুখে মুখে নয়, ভারতের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় নিজে ৪ আগস্ট আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করে। এরপর ডিসেম্বরে খালেদা জিয়ার মৃত্যুতে জয়শঙ্কর নিজে ঢাকায় উড়ে আসেন, মোদির ব্যক্তিগত চিঠি হাতে দিয়ে যান, শোকবার্তার পাশাপাশি স্ত্রী-কন্যাসহ ভারত সফরের প্রস্তাব দিয়ে যান।

বিএনপি নিজেই তখন এক্স-এ পোস্ট করে জয়শঙ্করকে ধন্যবাদ জানায়, লেখে “কন্টিনিউড গুডউইল”। তারপর আগস্টে সেই দ্বিপাক্ষিক সফর হঠাৎ স্থগিত হয়ে যায়। আর এখন সেপ্টেম্বরে এসে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির বলছেন, প্রধানমন্ত্রীকে নাকি আমন্ত্রণই জানানো হয়নি, শুধু বিমসটেক চেয়ারম্যান হিসেবে ডাকা হয়েছে। প্রশ্ন ওঠাই স্বাভাবিক এখন, ফেব্রুয়ারির সেই আমন্ত্রণটা তাহলে কী ছিল, ভুয়া কাগজ?

আসল সমস্যাটা এখানেই। কোনো দেশের সরকার যদি নিজের পাওয়া কূটনৈতিক আমন্ত্রণের ধরন নিয়েই স্পষ্ট থাকতে না পারে, প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সেই সরকার আসলে কী নিয়ে দরকষাকষি করছে সেটাই বোঝা মুশকিল। আন্তর্জাতিক মঞ্চে একবার প্রোটোকল নিয়ে খুঁতখুঁতে সেজে সফর বাতিল করা মানে নিজের অপরিপক্কতাই জাহির করা, বিশেষ করে যখন কয়েক মাস আগেই নিজের দলের বিবৃতিতে সেই একই সম্পর্ককে “গুড উইল” বলে সেলিব্রেট করা হয়েছে।

এই অভিমানের মূল্যটা আসলে কে দেবে সেটাও ভাবার বিষয়। আদানির গড্ডা প্ল্যান্ট থেকে বাংলাদেশ পুরো ১৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পায়, একক সবচেয়ে বড় আমদানিকৃত উৎস। ২০২৫ সালেই ভারত সরকার এই প্ল্যান্টকে কাহালগাঁও-মাইথন লাইনের মাধ্যমে নিজেদের জাতীয় গ্রিডের সাথে যুক্ত করার অনুমোদন দিয়ে রেখেছে, ২৫ বছরের জন্য। মানে সহজ কথায়, বাংলাদেশ যদি পেমেন্টে গড়িমসি করে বা চাহিদা কমিয়ে দেয়, আদানির হাতে এখন বিকল্প বাজার তৈরি হয়ে আছে, ভারতের নিজের রাজ্যগুলোতে বিক্রি করার সুযোগ। বাংলাদেশের হাতে কিন্তু এমন কোনো বিকল্প নেই, এতটুকু বিদ্যুৎ একদিনে অন্য কোথাও থেকে জোগাড় করার সামর্থ্য নেই।

বাণিজ্যের হিসাবটাও ভয়াবহ। বছরে ১২ বিলিয়ন ডলারের বাণিজ্যের মধ্যে ভারতের রপ্তানিই ১০ বিলিয়নের বেশি, বাংলাদেশের মাত্র ২ বিলিয়ন। গার্মেন্টস শিল্পের কটন, সুতা, পলিয়েস্টার, ডাই, কেমিক্যাল, মেশিনারি এসবের বড় অংশ আসে সীমান্তের ওপার থেকে, স্থলপথে, দ্রুত ও সস্তায়। এই সাপ্লাই চেইন একবার বিঘ্নিত হলে বিকল্প দেশ থেকে আনতে গেলে সমুদ্রপথ, বাড়তি জাহাজভাড়া, বন্দর খরচ, সময়, সব মিলিয়ে উৎপাদন খরচ এমনভাবে বাড়বে যে অনেক কারখানার পক্ষেই টিকে থাকা কঠিন হয়ে যাবে। খাদ্যপণ্যের ক্ষেত্রে অবস্থা আরও নাজুক। চাল, পেঁয়াজ, মরিচ, আলু, ডাল, ভুট্টা এসবের ক্ষেত্রে ভারত থেকে কয়েক ঘণ্টায় পণ্য বাজারে চলে আসে। পঁচনশীল পণ্যে এই সময়ের সুবিধাটাই সবচেয়ে বড়, দূরের দেশ থেকে আনতে গেলে সেটা নষ্ট হয়ে যায়, দামও হয় লাগামছাড়া।

এই বাস্তবতাগুলো জানার পরও কূটনীতিতে এমন হঠকারী সিদ্ধান্ত কেন নেওয়া হলো, সেই জবাব এই অবৈধ, দখলদার বিএনপি সরকারের কাছে নেই। প্রতিবেশী রাষ্ট্রের সাথে সম্পর্ক পরিচালনা করা মানে আবেগ দিয়ে নয়, হিসেব করে চলা, বিশেষ করে যে দেশের অর্থনীতি এতটা নির্ভরশীল তার ক্ষেত্রে তো আরও বেশি।

২০০১-০৬ সালে বিএনপির শাসনামলেও প্রতিবেশী সম্পর্ক পরিচালনায় একই ধরনের অদূরদর্শিতা দেখা গিয়েছিল, ফল ভুগেছিল সাধারণ মানুষ। সেই একই প্যাটার্ন যেন আবারও ফিরে এসেছে। তারেক রহমানকে তাই সহজ প্রশ্নটাই করা উচিত, ফেব্রুয়ারির আমন্ত্রণ আর সেপ্টেম্বরের বক্তব্য, এই দুটোর মধ্যে কোনটা সত্যি বলছেন?

আরো পড়ুন

সদ্য প্রকাশিত